সবাই এখন ম্যাসেঞ্জার আর ফেসবুকে। ইংরেজিতে কথা বলতে গেলে পুরো মাথার এদিক থেকে ওদিক হাতড়ে মরতে হবে, তাই সবাই চুটিয়ে এখন ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাতে কি সুবিধা হচ্ছে খুব? যেমন আমার ফেসবুক ওয়ালে কয়েকদিন আগে একজন মন্তব্য লিখলো 'Thanks Bhi' কিন্তু 'bhi' জিনিসটা যে কি সেটা তিন চারটা ডিকশনারি খুঁজেও বুঝতে পারলাম না। তারপর হঠাৎ করেই বুঝতে পারলাম যে আসলে সে লিখতে চেয়েছিল 'থ্যাংকস ভাইয়া/ভাই'। তাই কথা হচ্ছে ইংরেজি দিয়ে বাংলা চালাতে গিয়ে বাংলার দফারফা করার কোন মানে হয় না।

ইউনিকোডে বাংলা লেখার চমৎকার সফটওয়্যার 'অভ্র'
যেহেতু বাংলা লেখা এখন অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে, তখন আর এভাবে বাংলা লেখার দরকারটা কোথায়! আগে বাংলা ভাষায় বিজয়, লেখনী, প্রশিকাশব্দ এরকম প্রচুর বাংলা লেখার সফটওয়্যার ছিল, আর এগুলো ব্যবহার করতে হলে ওদের কিবোর্ড লেআউটের ওপর দখল নিয়ে আসতে হতো। তারওপর ছিল আরেক সমস্যা, বিজয় দিয়ে কিছু লিখলে সেটা আর লেখনী ব্যবহারকারী খুলতে পারতেন না, আর কারো কাছে বাংলা ফন্ট নেই তো সেটার পাঠোদ্ধার করারও আর কোন উপায় নেই (যতোক্ষণ না আপনি সেই ফন্ট ডাউনলোড করছেন)। কিন্তু সম্প্রতি এই ব্যাপারগুলোতে পরিবর্তন এসেছে অনেক। ইউনিকোড ভিত্তিক ফন্ট চালু হয়েছে যার মানে হচ্ছে যদি আপনার কাছে বাংলা ইউনিকোড ফন্ট ইন্সটল করা থাকে তাহলে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করেই সেটা লেখা হোক না কেন, আপনি তা পড়তে পারবেন অনায়াসে। আর এই ইউনিকোড ভিত্তিক লেখালেখির দারুন একটা ফ্রি সফটওয়্যার হচ্ছে 'অভ্র'।
অভ্র সফটওয়্যার পয়সা দিয়ে কিনতে হয় না এবং এটা ইউনিকোডভিত্তিক, সুবিধা কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আরো অনেক সুবিধা আছে অভ্র ব্যবহার করার। প্রথমত: এতোদিন বাংলা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হলে সেই সফটওয়্যারের কিবোর্ড লেআউট মুখস্থ বা আয়ত্ত্ব করতে হতো। কিন্তু অভ্র কিবোর্ডের ক্ষেত্রে বাংলা লেখালেখির জন্য আছে তিন ধরনের ব্যবস্থা। ১. অভ্র ফোনেটিক: ইংরেজি ব্যবহার করে আমরা যেভাবে বাংলা লিখি, ঠিক সেভাবেই লিখতে শুরু করুন, অভ্র সফটওয়্যার নিজে থেকেই সেটাকে বাংলাতে রূপান্তরিত করে দেবে। যেমন: কিবোর্ড থেকে 'পি' অক্ষর চাপলে সেটা বাংলা 'প' অক্ষরে পরিণত হবে। ২. অভ্র মাউস: এই পদ্ধতিতে কিবোর্ডে বাংলা অক্ষরগুলো দেখা যায়, আপনার কাজ হচ্ছে শুধু মাউস পয়েন্টার ঠিকমতো তাক করে ক্লিক করা। ৩. প্রচলিত কিবোর্ড লেআউট ভিত্তিক: এ ক্ষেত্রে তিন ধরনের কিবোর্ড লেআউট ব্যবহার করতে পারবেন; বর্ণনা, ন্যাশনাল (জাতীয়) এবং ইউনিজয়। যারা বিজয় কিবোর্ড ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তারা ইউনিজয় লেআউট ব্যবহার করতে পারেন, দুটোর মধ্যে মিল আছে প্রচুর, শুধু দুয়েকটা অক্ষরের অবস্থানের গড়মিল আছে, কিন্তু সেটা কিছুদিনের মধ্যই আপনার আয়ত্তে চলে আসবে।
উইন্ডোজ ব্যবহাকারীদের জন্য (বিশেষ করে যারা উইন্ডোজ ভিস্তা ব্যবহার করছেন) অভ্র ব্যবহার করা সহজ। সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিয়ে ইন্সটল করে নিলেই হলো। উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহারকারীদের হয়তো একটু ল্যাঙ্গুয়েজ সেট-আপ করে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেটাও বেশ সহজ এবং এর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে অভ্র-র হেল্প ফাইল থেকেই। একবার ইন্সটল করার পর অভ্র ব্যবহার করে মাইক্রোসফট অফিস সফটওয়্যার, এমএসএন ম্যাসেঞ্জার, ইমেইল সবকিছুই বাংলায় করা সম্ভব হবে।
অভ্র সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
আরো তথ্য পাওয়া যাবে: বাংলা ইউনিকোড সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন: বিজ্ঞানী.কম - বাংলা ইউনিকোডের সহজ পাঠ
