মবলিন - সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য চমৎকার অপারেটিং সিস্টেম

Printer-friendly versionSend to friendPDF version

কিছুদিন আগে উইন্ডোজ সেভেন বাজারে এলো, তাই নিয়ে কতো হৈ চৈ। উইন্ডোজের নতুন নতুন সংস্করন বাংলাদেশের লোকজনের কাছে বেশ ভালোই লাগে, কারন সেগুলো বিনিপয়সাতেই ব্যবহার করা যাচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য দেশে যাদের অপারেটিং সিস্টেমটাও আলাদা কিনতে হয়, তাদের কাছে কম্পিউটার ব্যবহারের খরচটা অনেক বেশিই। আর তাই এসব লোকেরা এখন ঝুঁকছেন ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের দিকে। বাজারে অনেকদিন ধরেই লিনাক্স চলছে, কিন্তু সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য লিনাক্স (ফেডোরা, উবুন্টু, ডেবিয়ান আর অন্যান্য সব সংস্করন) বেশ জটিল। আর তাই খুব সহজে ব্যবহার করা যায় এরকম একটা লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে মবলিন। ল্যাপটপ, নেটবুক আর আধুনিক মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠার যথেষ্ট কারন রয়েছে।

যারা শুধুমাত্র ইন্টারনেট, ইমেইল, আর লেখালেখি, গান শোনা, ছবি দেখার মতো সহজ সরল কাজের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকেন, তাদের জন্য মবলিন চমৎকার এক অপারেটিং সিস্টেম।

মবলিন সম্পর্কে প্রথমেই যেটা বলা দরকার সেটা হচ্ছে এটা খুব চটপটে, মানে খুব দ্রুত কাজ করে। যারা উইন্ডোজ ভিস্তা ব্যবহার করেছেন, তারা আশাকরি বেশ ভালোমতোই জানেন যে অপারেটিং সিস্টেম চটপটে না হলে হাত কামড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। সেদিক থেকে মবলিনের পারফর্মেন্স বেশ ভালো। দ্বিতীয়ত, এটা বেশ দৃষ্টিনন্দন, দেখতে বেশ ভালো। তৃতীয়ত, এর নেভিগেশন বেশ সহজ-সরল। ফলে দুয়েক মিনিট ব্যবহারের পরেই জেনে যাবেন যে কোথায় কি আছে, আর কোন কাজটা কিভাবে করতে হবে। চতুর্থত, ইন্টারনেটের সাথে এর যোগাযোগটা বেশ ভালো। এখন বেশিরভাগ মানুষই ইমেইল, চ্যাট, ফেসবুক আর বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। আর অনেকেই আছেন যাদের কম্পিউটার ব্যবহারের মূল কারনই ওয়েবে ঘাটাঘাটি করা। তাদের জন্য আলাদা একটা অংশই আছে মবলিনে। পঞ্চমত, নিজের পছন্দমতো বেশ কিছু সফটওয্যার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে এখানে। প্রোগ্রাম ইন্সটল করাটাও বেশ সহজ, অ্যাড/রিমুভ অংশ থেকে নিজের পছন্দমতো সফটওয্রারগুলো বেছে নিয়ে ইন্সটল করতে বলে দিলেই হলো, কিছক্ষণের মধ্যেই সেটা ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়ে যাবে। ষষ্ঠত, এখনকার টাচস্ক্রিন নির্ভর যে নতুন প্রযুক্তি আসছে, সেখানেও খুব সহজেই কাজ করার পরিবেশ রয়েছে মবলিনে।

মবলিন চালু হওযার পর দেখতে পাবেন 'মাই জোন' প্যানেল, অনেকটা ওয়েবসাইটের হোমপেইজের মতো। এখানে সাম্প্রতিক যেসব ওয়েবসাইট, প্রোগ্রাম বা ডকুমেন্ট ব্যবহার করেছেন তার লিঙ্ক থাকছে।

মবলিন চালু হওয়ার পর স্ক্রিনে যেটা দেখা যায় সেটা হচ্ছে 'মাই জোন'। এটি তিনভাগে বিভক্ত। বাদিকের অংশটা হচ্ছে 'রিসেন্ট অ্যাক্টিভিটি' অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে যা কিছু করা হয়েছে সেগুলোর তালিকা দেখাবে। এর সবচেয়ে উপরের অংশটাতে থাকবে ক্যালেন্ডার অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং বিভিন্ন কাজের তালিকা। আর বাদিকের নিচের অংশটাতে থাকবে সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে এরকম প্রোগ্রামের লিঙ্ক। 'মাই জোন'-র মাঝের অংশটাতে থাকছে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবহার করা বিভিন্ন ফাইল এবং ওয়েবসাইটের তালিকা ও লিঙ্ক। আর 'মাই জোন'-র ডান পাশের অংশটাতে থাকছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কের আপডেট। এখানে লাস্ট.এফএম বা টুইটারের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আপনার প্রোফাইলে কি ঘটে চলছে তার সর্বশেষ আপডেট দেখা যাবে।

মবলিনের একেবারে উপরের দিকে থাকছে টুলবার। এই টুলবারটারও তিনটা অংশ রয়েছে। প্রথমে যেটা দেখা যাবে সেটা হচ্ছে তারিখ এবং সময়। এরপর থাকছে 'টাস্ক আইটেম প্যানেলস' বা বিভিন্ন প্যানেল বা অংশে যাওয়ার লিঙ্ক। আর ডানদিকে থাকছে 'সিস্টেম ইনফরমেশন'। মাঝখানে যে টাস্ক প্যানেল আছে সেখানে রয়েছে স্ট্যাটাস প্যানেল, পিপল প্যানেল, ইন্টারনেট প্যানেল, মিডিয়া প্যানেল, পেস্টবোর্ড প্যানেল, অ্যাপ্লিকেশন প্যানেল এবং জোনস প্যানেল-এ যাওয়ার লিঙ্ক।

'মাই জোন' প্যানেল নিয়ে আমরা আগেই আলোচনা করেছি। স্ট্যাটাস প্যানেল হচ্ছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং-এর জন্য, এখানে আপনি টুইটার, ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে আপনার স্ট্যাটাস সেট করে দিতে পারবেন, একই সাথে সেখানে বিভিন্ন জিনিস আপডেটও করতে পারবেন। এরপরে রয়েছে 'পিপল প্যানেল', এটা অনেকটা কন্ট্যাক্ট বুকের মতো। আপনার পরিচিত মানুষদের নাম, ঠিকানা আর সব বৃত্তান্ত পাওয়া যাবে এখানে এবং চাইলে তাদের সাথে যোগাযোগও করা যাবে এখানে থেকেই। পরবর্তী প্যানেল হচ্ছে 'ইন্টারনেট প্যানেল' এবং এটা হচ্ছে আসলে ফায়ারফক্স ব্রাউজার। ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য এই প্যানেলে যেতে হবে আপনাকে। 'মিডিয়া প্যানেল'-র নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে কম্পিউটারে ছবি, গান আর ভিডিওগুলোর নাগাল পাবেন এই প্যানেলের মাধ্যমে। এখানে যে কোন মিডিয়ার থাম্বনেইল দেখা যাবে, আর যে কোনটার ওপর ক্লিক করে সেটাকে ব্যবহার করা যাবে। শুধু তাই নয়, চাইলে সেগুলোকে কোন playlist-এ যোগ করেও দিতে পারেন। এর পরের প্যানেল হচ্ছে 'পেস্ট বোর্ড'। এটা ক্লিপবোর্ডর মতো কাজ করে। একাধিক জিনিস এখানে কাট-পেস্ট বা কপি পেস্ট করে রাখতে পারবেন এবং সেগুলোকে ম্যানেজও করতে পারবেন। 'অ্যাপ্লিকেশন প্যানেল' থেকে মবলিনের সাথে যেসব বিভিন্ন প্রোগ্রাম আসছে সেগুলোর সন্ধান পাবেন। এখানে কন্ট্রোল প্যানেলের মতো 'সেটিংস' অংশ থেকে কিবোর্ড, মাউস, গ্রাফিক্স, সাউন্ডের মতো বিভিন্ন জিনিস নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন। সফটওয়্যার ইন্সটল/আনইন্সটল করার জন্য রয়েছে অ্যাড/রিমুভ সফটওয্যার অ্যাপ্লিকেশনস লিঙ্ক। সবশেষে রয়েছে 'জোনস' প্যানেল। এটা উইন্ডোজ টাস্কবারের মতো অংশ, এক সাথে যদি একাধিক প্রোগ্রাম চালাতে থাকেন, তাহলে সবগুলো প্রোগ্রাম দেখতে পাবেন এই 'জোনস' অংশ থেকে। এছাড়া এই প্যানেলে না এসে alt+tab বাটন চেপেও এক প্রোগ্রাম থেকে আরেক প্রোগ্রামে যেতে পারবেন।

মবলিনের আরো স্ক্রিনশট দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।

মবলিনের লাইভ-সিডি ইমেজ ফাইল ডাউনলোড করা যাবে তাদের ওয়েবসাইট থেকে। এই লাইভ-সিডি ইমেজের সাইজ হচ্ছে ৭৫৪ মেগাবাইট, তাই এটাকে বার্ন করতে হলে একটা ব্লাঙ্ক ডিভিডির প্রয়োজন হবে। এছাড়াও এটাকে ইউএসবি স্টিকেও ইন্সটল করতে পারবেন। এর নির্দেশনা পাওয়া যাবে ওদের ওয়েবসাইট থেকেই। মবলিন ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন।