প্যান'স ল্যাবিরিন্থ

Printer-friendly versionSend to friendPDF version
পরিচালক: গুইলেরমো ডেল টরো
মুক্তি: ২০০৬
সিনেমার দৈর্ঘ্য: ১১৯ মিনিট
সিনেমার ধরন: হরর/ সাসপেন্স/ ফ্যান্টাসি
সার্টিফিকেট: ১৫ (রক্তপাত এবং বিভিন্ন গালিগালাজের জন্য)
ভাষা: স্প্যানিশ
দেশ: স্পেইন
পুরস্কার: ২০০৭-এ ৩টি অস্কার - সেরা মেকআপ, সেরা সিনেমাটোগ্রাফি এবং আর্ট ডাইরেকশনের জন্য

গুইলেরমো ডেল টরো-কে হয়তো নামে অনেকে চেনেন না, কিন্তু কাজে হয়তো চেনেন। হেলবয়, ব্লেড সিনেমাগুলো ডেল টরোর পরিচালনায় করা। হেলবয় টু করার আগে যে সিনেমাটি ডেল টরো বানান সেটা হচ্ছ 'প্যান'স ল্যাবিরিন্থ'। এটা অবশ্য ইংরেজি নাম, মূল স্প্যানিশ নাম হচ্ছে 'এল ল্যাবিরিন্তো ডেল ফনো'। যারা ফ্যান্টাসি সিনেমা পছন্দ করেন তাদের কাছে অসাধারন মনে হবে এটি। সিনেমাটি দেখতে শুরু করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এর ভেতরে ঢুকে যাবেন আপনি।

১৯৪৪ সাল, ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়। হিটলার কোনঠাসা হয়ে পরেছে, আর বেশিরভাগ দেশ তার দখল থেকে মুক্ত। সে সময় স্পেইনে গৃহযুদ্ধ চলছে। সামরিক বাহিনীর ক্যাপ্টেন ভিডাল তার স্ত্রী কারমেন এবং সৎমেয়ে ওফেলিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে এক ক্যাম্পে। কারমেন সন্তানসম্ভবা, আর তাই ক্যাপ্টেন ভিডাল তাকে নিজের কাছে নিয়ে এসেছেন যাতে করে তার সন্তান তার সামনে জন্ম নিতে পারে। ভিডাল পুরোপুরি ফ্যাসিস্ট এবং তার আচরনের মধ্য দিয়েও নিষ্ঠুরতা বের হয়ে আসে সবসময়। রিপাবলিক সমর্থকরা প্রায়ই গেরিলা আক্রমন চালিয়ে সামরিক বাহিনীকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা চালায় আর এই গেরিলাদের নির্মূল করার জন্য নির্মমভাবে কাজ করে যায় ভিডাল।

এরকমই একটা কঠিন সময়ে ওফেলিয়া একটা কঠিন সংকটের সময় পার হয়ে আসার চেষ্টা করে নিজের মতো করে। রূপকথা খুবই পছন্দ তার, আর তাই সেসব ফ্যান্টাসি দিয়ে সত্যিকারের পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতাকে ভুলে থাকার চেষ্টা চালায় সে। ক্যাম্পের কাছেই এক গোলকধাঁধাঁ বা ল্যাবিরিন্থ, আর সেখানেই ওফেলিয়ার সাথে দেখা হয় এক ফন-র (ফন হচ্ছে রূপকথার চরিত্র, এদের উপরের অংশ মানুষের মতো, নিচের অর্ধেক ছাগলের মতো)। সেই ফন তাকে জানায় যে ওফেলিয়া আসলে মাটির নিচের এক রাজত্বের রাজকন্যা। কিন্তু অনেক বছর আগে সে পৃথিবীতে চলে আসায় তার সাথে মাটির নিচের রাজত্বের সম্পর্ক আলাদা হয়ে গেছে। কিন্তু তার বাবা এখনো তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, আর ফন ওফেলিয়াকে সাহায্য করবে যাতে করে সে আবার ফিরে যেতে পারে এবং অমরত্ব লাভ করতে পারে।

কিন্তু সেখানে ফিরে যাওয়ার আগে ওফেলিয়াকে কিছু কাজ করতে হবে। প্রথম কাজ হচ্ছে একটা মরে যাওয়া গাছের নিচে বিশাল এক ব্যাঙ বাস করে, আর তার পেটের ভেতরে আছে একটা চাবি। তাকে প্রথমে সেই চাবি উদ্ধার করতে হবে। দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে ওফেলিয়ার ঘরের দেয়ালে চক দিয়ে দরজা এঁকে একটা আলাদা জগতে যেতে হবে। সেখানে এক দানব বাস করে, যার হাতগুলো হচ্ছে চোখের মধ্যে। সেই দানবকে এড়িয়ে গিয়ে আগের উদ্ধার করা চাবি দিয়ে সেখানকার একটা সিন্দুক খুলে একটা ছুরি নিয়ে আসতে হবে। আর এভাবে সবগুলি কাজে সফল হলেই সে ফিরে পাবে তার অমরত্ব, ফিরে যেতে পারবে তার আসল দেশে।

সিনেমার কাহিনী অসাধারন, স্পেশ্যাল ইফেক্টও অসাধারন। যারা সাধারনভাবে সিনেমা দেখে আনন্দ পেতে চান, তারা যেমন এটা দেখে মজা পাবেন, তেমনি যারা সিনেমার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ দেখতে পছন্দ করেন, তারাও সেটা খুঁজে পাবেন সমানভাবে।