ইঙ্কস্কেপ: বিনিপয়সায় আঁকাঝোকার সফটওয়্যার

Printer-friendly versionSend to friendPDF version

বাংলাদেশে বিশ্বসেরা সফটওয়্যারগুলোর সাম্প্রতিকতম সংস্করণগুলো ব্যবহার করা যায় অবলীলায়, কারণ সেগুলো পয়সা দিয়ে কিনতে হয় না। কিন্তু যুক্তরাজ্যে এসে সেই বিরল সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হতে হলো। এখানে একটা চ্যারিটির সাথে কাজ করছি। তাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত আপডেট করাটাই আমার কাজ। অন্যসময় হলে ড্রিমউইভার আর ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করে সহজেই কাজটা চালিয়ে দেয়া যেতো। কিন্তু এখানে বেআইনি সফটওয়্যার ইন্সটল করার কোনো উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই খোঁজ করতে হলো ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের।

ওপেনসোর্স সফটওয়্যার সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা হলো বিনিপয়সার সফটওয়্যার আর কতোটাই বা ভালো হবে। আমারও একইরকম ধারণা ছিল। ফটোশপের বদলে গিম্প ব্যবহার করতে গিয়ে বেশ নাকানিচুবানি খেতে হলো। গিম্পে অনেক সুযোগসুবিধা আছে কিন্তু ঝামেলাও আছে কিছু। ফলে ওপেনসোর্স সফটওয়্যার নিয়ে একটু হতাশ হতে হলো। এর কিছুদিনের মধ্যেই ইলাস্ট্রেটরের বিকল্প হিসেবে ইঙ্কস্কেপ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে শুরু করলাম আর ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের ওপর ভরসা ফিরে পেলাম আবার।

ইঙ্কস্কেপ টুলবার অনেক সহজ সরল। একেবারে উপরের সারিতে আছে নতুন ফাইল তৈরি করা, সেভ করা, ফাইল খোলা, প্রিন্ট করা ইত্যাদি সাধারন কমান্ডগুলো। বাড়তি যেগুলো আছে সেটা হচ্ছে গ্রুপ, আনগ্রুপ, জুম, ক্লোন, ডুপ্লিকেট ইত্যাদি। এর নিচের লাইনেই রয়েছে সিলেকশন, ফ্লিপ এবং রোটেটের কমান্ড। এছাড়াও মাপজোখ করার অপশন রয়েছে এখানে। আঁকাআকির মূল টুলবার হচ্ছে বাদিকে। মূল টুলগুলোর মধ্যে রয়েছে টুইক, রেক্টেঙ্গল, থ্রিডি বক্স, সার্কেল, স্টার-পলিগন, স্পাইরাল, ফ্রিহ্যান্ড লাইন, কার্ভ, ক্যালিগ্রাফি, ফিল, টেক্সট, ডায়াগ্রাম কানেক্টরস, গ্র্যাডিয়েন্ট এবং পিক কালার। একেবারে নিচের দিকে থাকছে রং বেছে নেয়ার প্যানেল। এছাড়াও লেয়ার সিলেক্ট করার অপশন রয়েছে এই নিচের অংশে।

ইঙ্কস্কেপে সবচাইতে অভিনব মনে হয়েছে ক্যালিগ্রাফি টুলটাকে। যাদের ক্যালিগ্রাফিতে আগ্রহ রয়েছে তারা নিঃসন্দেহে চমৎকৃত হবেন এই টুল ব্যবহার করে। টুইক টুলের সাথে একসাথে ব্যবহার করে ক্যালিগ্রাফিতে অনেক ধরনের ইফেক্ট আনা সম্ভব। বাকি টুলগুলোর ব্যবহার একইরকম। তবে ডায়াগ্রাম কানেক্টর একটা চমৎকার সংযোজন। অনেকেরই ডায়াগ্রাম আঁকার প্রয়োজন হয় এবং তাদের কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছে এই টুলটা। টুলবক্স থেকে যে কোন টুল ব্যবহার করে প্রথমে ডায়াগ্রামের শেপগুলো তৈরি করে ফেলার পর এই কানেক্টর টুল দিয়ে সেগুলোকে জুড়ে দেয়া যায়। এরপরে কোন কারনে যদি কোনো একটা শেপকে অন্য জায়গায় সরাতে হয়, তাহলে আর নতুন করে কানেক্টরগুলোকেও সরানোর প্রয়োজন হয় না, সেগুলো নিজে থেকেই ঐ শেপের সাথে জায়গা বদল করে নেয়।

ট্রান্সফর্ম, এলাইন এবং স্ট্রোক প্যানেলগুলোও বেশ কাজের। ট্রান্সফর্ম প্যানেল থেকে কোন অবজেক্টকে মুভ, স্কেল, রোটেট, স্কিউ করার অপশন রয়েছে। এলাইন প্যানেল থেকে একাধিক অবজেক্টকে এলাইন করা এবং ডিস্ট্রিবিউট করার অপশন রয়েছে। আর স্ট্রোক প্যানেল থেকে অবজেক্টের রং, অপাসিটি, ব্লার, স্ট্রোক স্টাইল ইত্যাদি ঠিক করে দেয়া যায়। স্ট্রোক স্টাইল অংশ থেকে কোন লাইনে এরোহেড যোগ করা বা লাইনের স্টাইল ঠিক করে দেয়া যায়। প্যানেলগুলোর উপরে ডান কোনায় মিনিমাইজ অপশন রয়েছে। এখানে ক্লিক করলে প্যানেলটা ডানদিকের স্ক্রলবারের কাছে মিনিমাইজ অবস্থায় থাকে। পরবর্তীতে এটার ওপর একবার ক্লিক করেই পুরো প্যানেলটা আবার নিজের অবস্থায় ফিরে আসে।

ইঙ্কস্কেপের পাথ মেনুতে প্রচুর অপশন রয়েছে। বিভিন্ন অবজেক্টকে পাথে কনভার্ট করা, বিটম্যাপ ইমেজকে ভেক্টরে ট্রেস করা, বিভিন্ন পাথকে একসাথে জুড়ে দেয়া বা একটা থেকে আরেকটার শেপকে বাদ দিয়ে জটিল শেপ তৈরি করা ইত্যাদি সব অপশন রয়েছে এখানে। এছাড়াও কোন শেপকে সিম্প্লিফাই করার কমান্ডও রয়েছে ইঙ্কস্কেপে। বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার পাওয়া যাবে ইফেক্টস মেনুতে।

ইঙ্কস্কেপের সমস্যাও রয়েছে কিছু। প্রথমত, ইলাস্ট্রেটরের মতো বিভিন্ন ধরনের ব্রাশ ব্যবহার করার সুবিধা নেই এতে। যদিও ক্যালিগ্রাফি এবং টুইক টুল ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্রাশের ইফেক্ট আনা সম্ভব, তারপরেও ইলাস্ট্রেটরের ব্রাশ ব্যবহার করা অনেক সহজ। দ্বিতীয়ত, হ্যান্ড টুল। এডোবির হ্যান্ডটুল খুবই কাজেরএকটা টুল। কিন্তু ইঙ্কস্কেপে এই টুলটা অনুপস্থিত। তৃতীয়ত, লেয়ার ব্যবহার করাটা একটু জটিল মনে হয়েছে।

ইঙ্কস্কেপের ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নেয়া যাবে। যারা লিনাক্স ব্যবহার করেন তারাও সফটওয়্যারটিকে যে কোন স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ থেকে সিলেক্ট করে নিতে পারবেন। এছাড়াও সফটওয়্যারটির পোর্টেবল ভার্শন পাওয়া যাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে (এর মধ্যে www.portableapps.com অন্যতম)। পোর্টেবল ভার্শনের সুবিধা হচ্ছে পেনড্রাইভ বা ফ্লাশড্রাইভে করে সফটওয়্যারটি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যায়, আর সফটওয়্যারটি ব্যবহার করার জন্য ইন্সটল করার প্রয়োজন হয় না। ফলে যে কোন কম্পিউটারে সহজেই এটি ব্যবহার করা যায়।