দ্যা লাইভস অফ আদারস

Printer-friendly versionSend to friendPDF version
পরিচালক:
মুক্তি: ২০০৬
সিনেমার দৈর্ঘ্য: ১৩৭ মিনিট
সিনেমার ধরন: ড্রামা
সার্টিফিকেট: ১৫
ভাষা: জার্মানি
দেশ: জার্মানি
পুরস্কার: ২০০৭ সালে 'সেরা বিদেশি ছবি' ক্যাটাগরিতে অস্কার

আত্মত্যাগ মানুষকে কতোটা বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে তার ওপর নির্মিত জার্মান চলচ্চিত্র। গত শতাব্দীর সবচাইতে বড় ঘটনার একটা ছিল বার্লিনের প্রাচীরের পতন বা দুই জার্মানির একত্রিকরন। কিন্তু এটার জন্য কতো মানুষকে যে কতোভাবে সংগ্রাম করতে হয়েছে, আত্মত্যাগ করতে হয়েছে তা এখনো অনেকের অজানা। ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে এরকমই একটা কাহিনী নিয়ে নির্মিত ছবি 'দ্যা লাইভস অফ আদারস'।

সিনেমার প্লট:

১৯৮৪ সাল। ইস্ট বার্লিনে নাগরিকদের জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছিল গোয়েন্দা এবং পুলিশ বাহিনীর তৎপরতায়। প্রায় প্রতিটি সন্দেহভাজন নাগরিকের ওপর নজরদারি চালানো হতো তখন। এরকম সময়ে যারা দুই বার্লিনকে একত্রিত করতে চাচ্ছিলেন তারা ভয়ঙ্কররকম বিপদের মুখে ছিলেন।

এই সিনেমার মূল চরিত্র উইজলার, পুলিশ বাহিনীর একজন গোয়েন্দা। আসামীদের জেরা করার অভিনব এক পদ্ধতি তিনি আবিষ্কার করেছেন, আসামীদেরকে ঘুমাতে না দিলে এবং অনবরত একই প্রশ্ন করতে থাকলে একসময় তারা মুখ খুলতে বাধ্য হয়। উইজলারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে নাট্যকার জর্জ ড্রেম্যানের ওপর গোয়েন্দাগিরির নির্দেশ দেন। খুব শীঘ্রই সেই নাট্যকারের বাসার সব দেয়ালে গোপন মাইক্রোফোন পাতা হয়ে যায়, আর তাদের কথাবার্তা, প্রেম-ভালোবাসাসহ দৈনন্দিন জীবনের সবকিছু গোপনে শুনতে থাকে উইজলার।

অল্পদিনের মধ্যেই ড্রেম্যানের ওপর নজরদারির কারন খুঁজে পেলেন উইজলার। এই নাট্যকারের সাথে প্রেম চলছে অভিনেত্রী ক্রিস্টা-মারিয়া সিল্যান্ড-র, আর সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য হেম্প সেই অভিনেত্রীকে পেতে চান নিজের করে। কিন্তু পথে বাঁধা হয়ে আছে এই নাট্যকার, তাই তাকে জেলে পাঠানোর জন্য এই প্রহসন। সমাজতন্ত্রে ঘোর সমর্থক উইজলার ক্ষমতাসীনদের এই নোংরামি দেখে বিবেকে আঘাত পেলেন।

ইতোমধ্যে সেই অভিনেত্রীর সাথে হেম্পের শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং হেম্প তাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে তিনি চাইলেই সেই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারেন যে কোন মুহুর্তে। তার ওপর সিল্যান্ড মাদকাসক্ত আর তার ড্রাগের সরবরাহ আসে হেম্পের কাছ থেকে। ফলে খুব সহজেই সে হেম্পের হাতের পুতুলে পরিনত হয়। এদিকে ড্রেম্যান দেখতে পায় যে হেম্পের গাড়ি সিল্যান্ডকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছে, তাই সে সহজেই বুঝতে পারে যে আসলে ঘটনা কি ঘটছে। সপ্তাহখানেক পরে ড্রেম্যান সিল্যান্ডকে বলে হেম্পের সাথে তার সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার জন্য। কিন্তু সিল্যান্ড তাতে রাজি হয় না এবং ড্রেম্যানের বাধা সত্বেও হেম্পের সাথে দেখা করতে যায়।

সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী হলেও ড্রেম্যান যখন দেখতে পায় যে তার বন্ধুরা কালোতালিকাভুক্ত এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমে বিভিন্নভাব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তখন তার ব্যাপারটা পছন্দ হয় না। এক পার্টিতে আলবার্ট জারস্কা'র ব্যাপারে ড্রেম্যান কথা বলে হেম্পের সাথে, কালোতালিকাভুক্ত হওয়ার কারনে জারস্কা সাত বছর ধরে পরিচালকের পদে কাজ করতে পারেননি। কিন্তু হেম্প জানিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে তিনি কোনভাবে হাত দিতে চান না। সেই রাতেই জারস্কা আত্মহত্যা করেন। এতে ড্রেম্যান ভয়ঙ্কর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর বেনামে আত্মহত্যার হার নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখে পাঠান পশ্চিম জার্মানির এক পত্রিকায়। যেহেতু সব টাইপরাইটার গোয়েন্দাবাহিনীর কাছে রেজিস্টার করা, ড্রেম্যান তাই এই প্রবন্ধ লিখতে পশ্চিম জার্মানি থেকে পাচার করে আনা মিনিয়েচার টাইপরাইটার ব্যবহার করেন। প্রবন্ধটি ছাপা হওয়ার পর ব্যাপক হৈ চৈ পরে যায়, পূর্ব জার্মানির গোয়েন্দা বাহিনী আসল কপিটি কোনভাবে যোগাড় করে এবং দেখতে পায় যে এটি এমন একটি টাইপরাইটারে লেখা যেটা তাদের রেজিস্টারে তালিকাভুক্ত নয়।

এরপরের কাহিনী উইজলারের বিভিন্ন ভূমিকার ওপর। বিভিন্নভাবে সে চেষ্টা করে ড্রেম্যানকে বিভিন্ন বিপদ থেকে বাঁচিয়ে দিতে, কিন্তু এর পুরোটাই ড্রেম্যানের কাছে অজানা থেকে যায়। উইজলারের এই অসাধারন আত্মত্যাগ তাকে অন্যদের চাইতে আলাদা করে তোলে, উইজলার দেখিয়ে দেন যে আসলে অন্ধভাবে কোন কিছু বিশ্বাস করতে নেই, আমাদের নিজেদের মতামত বা যাচাইয়ের একটা বড় ভূমিকা আছে এবং একটা সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সেটাকে অনুসরন করা উচিত।